মালয়েশিয়ায় প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।মালয়েশিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬৫জন।মোট আক্রান্ত হয়েছে ৪১১৯জন।সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৪৮৭জন।করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে ১৮ই মার্চ থেকে মালয়েশিয়ায় চলছে মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (এমসিও) বা গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ আদেশ।১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই এমসিও।এই এমসিও সময়সীমা বাড়ানো হবে কিনা তা ১০ই এপ্রিল ঘোষণা করবে সরকার।
মালয়েশিয়ায় করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে জনগনের চলাফেরা নিয়ন্ত্রনে নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।অপ্রয়োজনে বাইরে গেলেই করা হচ্ছে জেল জরিমানা।গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ আদেশ অমান্য করায় আটক করা হয়েছে অনেককেই।বন্ধ রয়েছে দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।থমকে গেছে দেশের অর্থনীতি।ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে বাংলাদেশী সহ অনেক প্রবাসী।এমতাবস্থায় বাংলাদেশী সহ সকল প্রবাসী চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছে।তাদের নিকট নগদ অর্থ না থাকায় খাদ্য সংকটে ভুগছেন অনেক প্রবাসী।
যদিও এমসিও চলাকালীন সকল কর্মীদের বেতন দিতে ঘোষণা দিয়েছিল সরকার তবুও বেতন পায়নি বাংলাদেশী সহ অনেক প্রবাসী।বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অন্যায়ভাবে অনেক প্রবাসীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।মালয়েশিয়ার ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (এমটিইউসি) এই আচরনের নিন্দা জানিয়েছে।এমটিইউসির সেক্রেটারি-জেনারেল জে সলোমন বলেছেন ইতোমধ্যেই এই বিষয়ে আমরা ৩২জনের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও চাকরি হারানোর তিনটি অভিযোগ পেয়েছি ।তিনি বলেন বাংলাদেশীসহ সকল কর্মীরা তিনটি ছোট ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিল।বাংলাদেশী, নেপাল এবং মিয়ানমারের ওই কর্মীরা এখন সুবাং জায়ার একটি দোকানের দ্বিতীয় তলায় ক্ষুদ্র হোস্টেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবনযাপন করছে।
আরও পড়ুনঃ
👉লকডাউন অমান্য করলেই ১হাজার রিংগিত জরিমানা।পড়ুন বিস্তারিতঃ
👉মালয়েশিয়াতে লকডাউন সময়সীমা বাড়ানো হবে কিনা তা ১০ই এপ্রিল ঘোষণা করা হবে।probashi express
সলোমন আরও বলেছেন যে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ১৮ই মার্চ থেকে এমসিও শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের বেতন দেওয়া হয়নি।এমসিও চলাকালীন সকল কর্মীদের সম্পূর্ণ বেতন দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও নিয়োগকর্তারা তাদের বেতন কর্তন করেছে।বেতন কর্তনের বিষয়ে কর্মীদের কোন কারণ জানানো হয়নি।
তিনি বলেন, শ্রমিকরা এখন উদ্বিগ্ন যে তারা কীভাবে পরের কয়েক মাস বেতন ছাড়াই জীবনযাপন করবে, কারণ বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় তারা নিজ দেশেও ফিরে যেতে পারছে না।এমটিইউসি শ্রম দফতরে শ্রমিকদের বিবরণ এবং তাদের বেতনের রশিদ ও চুক্তির অনুলিপি সহ একটি অফিসিয়াল অভিযোগ দায়ের করেছে।তিনি বলেছেন যদি কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের বিদেশী কর্মচারীদের সাথে এরূপ আচরন করে তাহলে এর থেকে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।এর পূর্বে ওইসব ব্যবসায়ীরা বিদেশী কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি দিয়ে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেছে।তিনি বলেন বিদেশী কর্মীরা মালয়েশিয়ার উন্নয়নে অবদান রেখেছে।তিনি সকলকে বিদেশী কর্মীদের সাথে সম্মানজনক আচরন করার আহবান জানান।


0 মন্তব্যসমূহ